দলিত আন্দোলনের নেতৃত্বের পুলিশি হেনস্থার প্রতিবাদে, নরেন্দ্রপুরে সাত ফেব্রুয়ারির সমাবেশে পুলিশি অত্যাচারের ঘটনায় দোষী পুলিশ আধিকারিকদের শাস্তি চাই। ওইদিনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া সমস্ত গণ আন্দোলন কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি চাই।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

লকডাউন বিরোধী গণ উদ্যোগ-এর পক্ষ থেকে স্কুল কলেজ খোলা এবং সমস্ত গণ পরিবহনের স্বাভাবিক চলাচলের দাবিতে, লকডাউনের বিধিনিষেধের নামে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামো বাড়াতে মৌলালিতে আজকের(11/1/22) কর্মসূচি থেকে ৩০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করেছে কলকাতা পুলিশ। একটি পুলিশ ভ্যান এন্টালি থানায়, আরেকটি তালতলা থানায় নিয়ে গেছিল, সাথীদের। পরে সবাইকে আইপিসি১৮৮, ডিএম আক্ট ৫১বি ধারায় মামলা দিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এই মুহূর্তে সারা দেশের ৫ টি রাজ্যে নির্বাচন চলছে। এ রাজ্যে ৪ জায়গায় পৌরসভার নির্বাচনের প্রস্তুতি জোর কদমে চলছে। আর সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে 'বিধিনিষেধ'!
গণ আন্দোলন কর্মীদের উপর রাজ্য সরকারের এই লাগাতার আক্রমনের বিরুদ্ধে এবং অবিলম্বে স্কুল কলেজ সহ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে, শিক্ষার অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত না করার দাবিতে, বিধিনিষেধের নামে গ্রামাঞ্চলের প্রান্তিক মানুষদের উপর কোনোরকম জুলুমবাজি, ধরপাকড়, ভয় না দেখানোর দাবিতে আজকের এই কর্মসূচি আটকে দিলে ও পরবর্তীতে আরও কর্মসূচি সংগঠিত হবে।

আলতাফ আমেদ
আহ্বায়ক
লকডাউন বিরোধী গণ উদ্যোগ

জানুয়ারি ১১, ২০২২

Youtube এ ভিডিও টি দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন

কোভিড বিধির অজুহাতে, রাষ্ট্র যে লকডাউন সমেত নানা বিধিনিষেধ জন মানুষের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে, সেই বিধিনিষেধ এড়িয়ে স্বাভাবিক জনজীবনে ফেরার বাধ্যবাধকতা হিসেবে রাষ্ট্র আবার ভ্যাক্সিন দেওয়া নিয়ে জোরাজুরি করছে। প্রথমে একটা, তারপর দুটো, এখন শোনা যাচ্ছে প্রতি ছ মাসে একবার বুস্টার ডোজ নিতে হবে। একদিকে কোর্টে সরকার হলফনামা দিচ্ছে যে ভ্যাক্সিন বাধ্যতামূলক নয়, এবং ভ্যাক্সিন এর ভিত্তিতে জন জীবনে বিভাজন করা সরকারি নীতি নয়। আবার আদতে নানা সরকারি সংস্থার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভ্যাক্সিন কে বাধ্যতামূলক করে তুলছে। শিক্ষাক্ষেত্রে, কর্মক্ষেত্রে। একটা এমন ভাইরাস যার সংক্রমণে ৮৫ % ক্ষেত্রে বা তারও ওপরে কোনো অসুখ হয়না, ১০ % ক্ষেত্রে বা তারও ওপরে কোনো গুরুতর অসুখ হয়না, তাকে নিয়ে জন জীবনে আতংক ছড়িয়ে জন জীবন কে রুদ্ধ করে বড় বড় পুজিপতিদের লাভের সুবিধা করে দেওয়ার চেষ্টা মানুষ ধরে ফেলেছে। মানুষ বিরক্ত হয়েছে রাষ্ট্রের অযৌক্তিক নিদান এ।
ছাত্রছাত্রীরা, শিক্ষক-শিক্ষিকারা, এবং অন্যান্য বহু পেশার মানুষজন আজ তাই পথে নেমেছে। একসাথে গলা মিলিয়ে অধিকার আদায়ের দাবী জানাচ্ছে -
বিনাশর্তে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে হবে,
বিনাশর্তে গনপরিবহন এবং জনজীবনের অন্যান্য অংশকে স্বাভাবিক রাখতে হবে।

গত ১২/১২/২১, রাতে জয়নগর বকুলতলা থানা জীবন মন্ডলের হাট থেকে রাত সাড়ে ১১ টা নাগাদ ৩ জন সমাজকর্মী, যারা জনস্বাস্থ্য নিয়ে সন্ধ্যায় এলাকায় প্রচার করছিল, তাদের থানায় তুলে নিয়ে আসা হয়। এনারা "শ্রমিক কৃষক একতা মঞ্চ"-এর হয়ে বকুলতলা থানা (জয়নগর ২ নং ব্লক) এলাকার মায়াহাউড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষেবা উন্নয়নের জন্য জনমত তৈরি করছিলেন। কিছুদিন আগে এনারা প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে বিএমওএইচ-এর কাছে ডেপুটেশন দেন।
ধৃত দের নাম -
১। তীর্থ রাজ ত্রিবেদী, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র
২। অ্যালফ্রেড ডিক্রুস, পলিটেকনিক ইঞ্জিনিয়ার
৩। আরও একজন, পলিটেকনিক ইঞ্জিনিয়ার) গ্রেফতার জীবন মন্ডলের হাট থেকে, ১২/১২/২০২১ রাত ১১-৩০ নাগাদ।
৪। বাবলু হালদার, গ্রেফতার ঐ এলাকায় তার বাড়ি থেকে। ১৩/১২/২০২১, দুপুর ১ টা নাগাদ।
সকলের বয়স কুড়ি থেকে তেইশের মধ্যে। জনস্বাস্থ্য নিয়ে প্রচার করার সময় সমাজকর্মীদের থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া এবং ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর ও আদালতে পেশ না করার এই ঘটনাকে, গ্রাফ জনস্বাস্থ্য ও মানবাধিকারের ওপর বেআইনী আক্রমণ বলে মনে করে। গ্রাফ এও মনে করে এই আক্রমণ জনস্বাস্থ্য ব্যাবস্থা কে উন্নত করার প্রচেষ্টা ও জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের ওপর আঘাত। গ্রাফ এরকম ঘটনার সামগ্রিক বিরোধিতা করে এবং অবিলম্বে ধৃতদের মুক্তির দাবী জানাচ্ছে।

ভাস্কর চক্রবর্তী
আহবায়ক, গ্রাফ।
Global Rational Alliance for Public Health (GRAPH)।
১৪/১২/২০২১

আপনাদেরও জানা দরকার, টিকা নেওয়ার অধিকার যেমন আমাদের আছে, তেমনি না-নেওয়াও আমাদের অধিকার। ছলে, বলে, কৌশলে, বিজ্ঞানের নামে, পাণ্ডিত্যের নামে, কারুর স্বার্থের নামে, কোনো জবরদস্তি আমরা সইব না।

  • টিকাকরণ বাধ্যতামূলক করা চলবে না।

  • যে-অচলাবস্থা চালু আছে, অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করতে হবে।
  • সমস্ত স্কুল, কলকারখানা, ট্রেন-বাস চালু করতে হবে, নিঃশর্তে।
  • সম্মানজনক শর্তে বেঁচে থাকাটা আমাদের অধিকার। জীবিকার অধিকার কেড়ে নেওয়া চলবে না।
  • যতদিন না দেশের একশো শতাংশ মানুষের কম্পিউটার, মোবাইল-এর বন্দোবস্ত হচ্ছে, সকলে সেগুলো ঠিকভাবে ব্যবহার করতে শিখছে, ততদিন সবকিছুকে অনলাইন করার ফিকির বন্ধ করতে হবে।