(এই লেখাটি একটি প্রবন্ধের অংশ, সামান্য পরিমার্জিত)
‘করোনা’ সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য বাজারে ‘ভ্যাক্সিন’ এসে গেছে। এদিকে জানা গেছে যে, ‘সারস -কোভ- ২ নামক’ এই করোনাভাইরাসটি দ্রুত পরিবর্তনশীল, অর্থাৎ ঘন ঘন ‘মিউটেট’ করে - যাকে নতুন ‘স্ট্রেইন’ বা ‘ভ্যারিয়েন্ট’ বলা হয়। তাহলে আজকের তারিখে আপনি যে ভ্যাক্সিন-এর ডোজটি গ্রহণ করলেন আগামীতে সেটি কার্যকর থাকবে না। কারণ ভাইরাসটি মিউটেট করবে। নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসবে। তাই এই জাতীয় RNA ভাইরাসের বিরুদ্ধে ভ্যাক্সিন কাজ করতে চায় না। তাছাড়া ৯৮% মানুষ ঘরে বসেই সুস্থ হয়ে যান। সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রেও যা ঘটে থাকে, ‘কো-মর্বিডিটি’ থাকলে এক্ষেত্রেও মৃত্যু হতে পারে।
কিন্তু ভ্যাক্সিন একটা লাভজনক ব্যবসা! যত নতুন ভ্যারিয়েন্ট তত ভ্যাক্সিন। একটির পর একটি বুস্টার ডোজ! তাই তিন নম্বর ডোজও এসে গেল! ফাইজারের। বছরে অন্তত একটা করে বুস্টার ডোজের কথা বলা হচ্ছে। অর্থাৎ দশ বছর বাঁচলে দশটা! কোভিশিল্ড আর কোভ্যাক্সিনও মাঠে নেমে পড়ল বলে! আমেরিকায় কিঞ্চিৎ আগে ভ্যাক্সিন দেওয়া শুরু হয়েছে। তিন নাম্বার ডোজের সময় হয়ে আসছে। এবছরের শেষে অথবা ২০২২ এর প্রথমে। এদেশেও আওয়াজ উঠল বলে৷ দেখতে থাকুন। ভ্যারিয়েন্টের যেমন শেষ নেই মুনাফারও শেষ নেই!
এবার প্রশ্ন করুন, এই ‘আর এন এ’ ভাইরাস কি আজই পৃথিবীতে এলো? তা নয়; মানুষ সৃষ্টির অনেক অনেক আগে থেকেই ওরা আছে! ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া! পরের প্রশ্ন! সর্দি-জ্বরের ভাইরাস কি ২০২০ সালের আগে মিউটেট করে নি? করোনাই প্রথম মিউটেট করল? মিডিয়া তাই শোনাচ্ছে; রাজনৈতিক দল, চিকিৎসক সংগঠন ( ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে) থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠান মাত্রেই একই সুর! যেন সার্স-কোভ-২ই প্রথম মিউটেট করে এমন "প্রাণঘাতী " হয়ে উঠল! কত রকম গাল ভরা নাম -- ব্রিটিশ ভ্যারিয়েন্ট অর্থাৎ বি.১.১. ৭ , সাউথ আফ্রিকান ভ্যারাইটি অর্থাৎ বি. ১. ৩৫১ B.1.351! আহা ভাইরাসেরও এমন প্যাকেজিং হতে পারে কেউ স্বপ্নেও ভেবেছিল!
আজ্ঞে না, সর্দি-জ্বরের এই আর এন এ ভাইরাস সৃষ্টি থেকেই মিউটেট করে আসছে। কারণ এটি তার বৈশিষ্ট্য! ডি এন এ ভাইরাসও মিউটেট করে, তবে অনেক শ্লথগতিতে৷ তবে কী দাঁড়াল? এই মিউটেশনের সঙ্গে মানবশরীর দিব্যি মানিয়ে নিয়েছে। ‘এন্টিবডি’র জন্ম দিয়েছে, ‘হার্ড ইমিউনিটি’র মাধ্যমে যুগের পর যুগ টিকে থেকেছে। যারা আগে থেকেই অত্যন্ত অসুস্থ, তারা অবশ্যই মারা গেছে। এটাই স্বাভাবিক, প্রাকৃতিক নিয়ম। কিন্তু একথা যতই স্বাভাবিক, যুক্তিসম্মত হোক না কেন, এভাবে চলতে দিলে নতুন নতুন ব্যবসা, মুনাফা অসম্ভব! ধনতন্ত্রের প্রাণভোমরা হল, নতুন নতুন চাহিদা তৈরি করা, যতই অপ্রয়োজনীয়, কৃত্রিম হোক না কেন! তাই আপনাকে প্রতি মুহূর্তে বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে করোনা মিউটেট করছে, করোনা মিউটেট করছে!
বিজ্ঞান কী বলছে? এসব ভাইরাস আগেও হাজার লক্ষ বার মিউটেট করেছে, আপনি খোঁজই রাখেননি। মিডিয়াও আপনাকে জানায় নি! এবার প্রশ্ন করুন সার্স-কোভ-২-এর নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট আরও কতদিন ধরে জন্মাবে, এবং আপনাকে জানানো হবে? উত্তর ভেবে নিন - যতদিন আপনি ভয় পাবেন, যতদিন আপনি প্যানিকে থাকবেন, যতদিন আপনি ‘কোভিড বিধি’ মেনে চলবেন ! যখন খুশি আপনাকে ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া যাবে! হ্যাঁ ওরা নজর রাখছে! যতদিন ভয়, ততদিনই ভ্যারিয়েন্ট।